জেলা প্রশাসন
left_menu_pic
Joomla Slide Menu by DART Creations
left_menu_footer
বিশেষ অর্জন

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে জনসাধারণের  অংশগ্রহনে বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতা বিতরণ

জনগনের দোড়গোরায় প্রশাসন


উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির (সোশাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম) এর আওতায় প্রথাগতভাবে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাই করা হয় এবং সরকারের বরাদ্দ সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে। ফলে বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। এ কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রিয়তা অস্বচ্ছতা ও দূর্নীতিমূলক কর্মকান্ড প্রায়ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে  জনগণের অর্থের  অপচয় ঘটে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠির সম্পদের প্রাপ্যতা/ গম্যতার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়ে উন্নয়ন ব্যহত হয়। এই অচলায়তনকে ভাঙ্গতে জেলা প্রশাসক, পাবনা মহোদয় এক অনন্য বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আওতায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ইলেক্ট্রনিক্স এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে গত ২৪/০৩/২০০৯ তারিখে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আওতায় অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ৪১ জন প্রকৃত বয়স্ক ব্যক্তিকে বাছাই করে তালিকাভূক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রত্যেককে বাৎসরিক ৩০০০/-(তিন হাজার) টাকা প্রদান করা হয়। একই দিনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের আওতায় উক্ত ইউনিয়নের ৬৩ জন বিধবা মহিলাকে বাৎসরিক ৩০০০/- (তিন হাজার) টাকা করে প্রদানের লক্ষ্যে বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সমগ্র কাজটিতে জেলা প্রশাসক, পাবনা মহোদয় উপস্থিত থেকে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এই সময় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পাবনা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভাংগুড়া, কয়েকজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভাংগুড়া থানা, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউ.পি সদস্যগণ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সুবিধাভোগীদের উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ফলে জনগণ তথ্য প্রাপ্তির পর স্বতঃস্ফুর্তভাবে বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। যারা মনোনীত হয়নি তাদের মধ্যে কোন ক্ষোভ ছিল না। বরং তারা বলে-‘‘ ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়েছে, আমরা এমনটিই চাই, আর যেন আগের মত বঞ্চিত না হই ’’। এ ঘটনা জনগণের তথ্য অধিকার রক্ষা এবং সম্পদের প্রাপ্যতার সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রশাসনের এ ব্যতিক্রমি উদ্যোগ বাস্তবিক অর্থেই প্রশাসনকে জনগণের দোড়গোরায় নিয়ে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবাধিকার রক্ষা এবং উন্নয়নের অগ্রগতিতে এ উদ্যোগ মাইল ফলক হিসেবে কাজ করতে পারে, নিশ্চিত করতে পারে জনবান্ধব প্রশাসন। এটাই আজকের উন্নয়ন প্রশাসনের অঙ্গীকার।